কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের উপর ছাত্রলীগের হামলা

0
.
.

কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা।  আজ রবিবার বিকালে মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মানহানীর মামলায় হাজিরা দিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা তাঁর উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করেছে বলে জানান মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ।

হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারেও ভাংচুর চালায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

গত বছর বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

এ মামলার জামিন নিতে তিনি সকালে কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে আসেন। বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এম.এম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে মাহমুদুর রহমানকে স্থায়ী জামিন দেন।

.

মাহমুদুর রহমানের সফর সঙ্গী বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান বলেন, ‘জামিন মঞ্জুর করার পর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে আদালত চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে দুপুরে মাহমুদুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রায় ৪ মিনিট কথা বলেন।

পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে নিজস্ব প্রাইভেটকারে কোর্ট চত্বর থেকে বের হতে চাইলে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলার মুখে পড়েন। হামলাকারীরা ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় প্রাণ বাঁচাতে মাহমুদুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামস তানিম মুক্তির চেম্বারে আশ্রয় নেন।

পরে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায় এবং অ্যাডভোকেট মুক্তির কক্ষও ভাংচুর করে। হামলায় মাহমুদুর রহমান গুরুতর আহত হন। মাহমুদুর রহমানের ব্যবহৃত কার (ঢাকা মেট্রো গ ১২-৮৭০৬) ভাংচুর করা হয়। হামলায় মাহমুদুর রহমানের ডান কান এবং মুখের চোয়াল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে তার পুরো শরীর ভিজে যায়।

পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুর রহমানকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর হাসপাতালে প্রেরণ করে।’

গত বছরের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত আলোচনা সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বঙ্গবন্ধু, তার কন্যা শেখ হাসিনা ও নাতনি টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ১০ ডিসেম্বর আমার দেশ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মানহানি মামলা দায়ের করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY