ফটিকছড়িতে আ’লীগের প্রতিরোধের মুখে বিকল্প পথে ভাণ্ডারীর শোভাযাত্রা, প্রশাসনের রণ প্রস্তুতি

0
.

জেলার ফটিকছড়িতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন এ আসনের সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যার  সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের কারণে মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একাংশের (সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া) শোভাযাত্রা ও পথ সভা গতিপথ পরিবর্তন করে নজিবুল বশর ভান্ডারী নাজিরহাট সুয়াবিল হয়ে ভুজপুরের দিকে গিয়ে শেষ হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে এ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুইগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দলের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয় ভান্ডারী সমর্থিত শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া কয়েকজন। ভাঙচুর হয় তাদের মোটর সাইকেল।

.

জানাগেছে, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকোঁতে উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে উপজেলা সদরের বিবিরহাটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মীদের অবরোধের মুখে পড়েন সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

এনিয়ে সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফটিকছড়ি থানা পুলিশ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জল কামান ও সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেন।

.

উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানের অন্তরালে ভান্ডারী সমর্থিত “আওয়ামী পরিবার” ব্যানারে নির্বাচনী শোডাউনই জন্য এ মোটর শোভাযাত্রার আয়োজন করে ভান্ডারী। এ জন্য নাজিরহাট ঝংকার মোড়ে সমাবেত হতে থাকেন তার সমর্থিত লোকজন। এতে এমপির সমর্থনে নৌকার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।

এদিকে এ শোডাউন প্রতিরেধের ঘোষণা দিয়ে সকাল থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এমপি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু তৈয়বের নেতৃত্বে মোটর শোভাযাত্রাটি নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে আরম্ভ হয়ে ফটিকছড়ি সদর, ফেলাগাজীর দীঘি হয়ে হেয়াকোঁতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নেতাকর্মীরা নাজিরহাট কুম্ভারপাড়া, ফটিকছড়ি সদর ও ফেলাগাজীর দীঘির মোড়ে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান করে। এতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জলকমান নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে।  পরে, সংসদ সদস্য ভান্ডারীর মোটর শোভাযাত্রাটি বিকল্প সড়ক নাজিরহাট-সুয়াবিল-কাজীরহাট হয়ে হেয়াকোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নামফলক উন্মোচন করা হবে, অথচ উপজেলা আওয়ামীলীগকে জানানো হয়নি। জনবিচ্ছিন্ন নেতারা মোটর শোভাযাত্রার নামে ফটিকছড়ির রাজনীতিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আক্তার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তবে এমপি সাহেব তার পথ পরিবর্তন করে ভুজপুরে চলে এসেছেন।  কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন