পুলিশের অভিযান সম্পর্কে শিবিরের বিবৃতি
“এডিসি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ৩ হাজার পুলিশ নিয়ে বিস্ফোরণের নাটক সাজিয়েছে”

1
.

চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের কার্যালয়ে বিস্ফোরণের পর পুলিশের তল্লাশীকালে ৬টি ককটেল ও বোমা তৈরীর বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাকে পুলিশের সাজানো নাটক বলে দাবী করেছে শিবির নেতারা।

আজ শনিবার রাতে অভিযানের পরপরই সংবাদপত্র অভিসে শিবিরের পাঠনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়-তল্লাশীর নামে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শাখার কার্যালয়ে পুলিশি তান্ডবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিবির।

যৌথ প্রতিবাদ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি আহমেদ সাদমান সালেহ ও সেক্রেটারি আ স ম রায়হান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাতের আঁধারে বিনা উষ্কানিতে লেলিয়ে দিয়ে তল্লাশীর নামে নগরী উত্তর শিবির কার্যালয়ে এডিসি মেহেদী হাসান’র নেতৃত্বে প্রায় ৩ হাজারের অধিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ভাংচুর ও তান্ডব চালিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ককটেল উদ্ধার এবং বিস্ফোরণের মিথ্যা বানোয়াট নাটক সাজিয়েছে।

.

পুলিশের এই বেআইনি আচরণ দেশের ছাত্রজনতাকে ক্ষুব্ধ করেছে। অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে বাকশালী কায়দায় ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টার অংশ হিসেবে সারাদেশে বিরোধী দলের অফিস গুলোতে নিয়মিত তান্ডব চালাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীদের উপর কার্যালয়ে প্রবেশে অঘোষিত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কার্যালয়ে গেলেই গ্রেফতার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন প্রকার হয়রানি করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ গায়ের জোরে শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সব অফিস বন্ধ করে রাখার পাশাপাশি কিছুদিন পরপর হামলা করে আসবাব ভাংচুর ও লুটপাটে মেতে উঠছে। সরকার যে বর্বর কায়দায় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ক্ষমতায় টিকতে চাইছে- এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তাছাড়া কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই এই অভিযান পরিচালনা গণতন্ত্রের জন্য বেআইনি ও সাংঘর্ষিক।

.

নেতৃবৃন্দ বলেন, অফিস বন্ধ অবস্থায় রাতের আধাঁরে হীন উদ্দেশ্যেই নাটক সাজানোর জন্যই এই অভিযান পরিচালনা করেছে। অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞা পালন করতে গিয়ে পুলিশ দেশের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ছাত্রশিবির দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী বা নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। দেশের আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হয়ে ছাত্রশিবির নিয়মতান্ত্রিক জনকল্যাণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এসব কর্মসূচি পালন করতে আইনি কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার তাদের দলীয় সন্ত্রাসী ও দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকের ঘাম ঝরা টাকায় লালিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাত্রশিবিরের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। যা অনাকাঙ্খিত ও অতি নীচু মানসিকতার পরিচায়ক।

নেতৃবৃন্দ বলেন একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ছাত্রশিবির ছাত্রদের মেধার চর্চা লালনে প্রয়োজনীয় সহায়তা করে আসছে। কিন্তু সরকার ও পুলিশ বরাবরই ছাত্রশিবিরের গঠনমূলক কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশীর নামে এই জঘণ্য কর্মকান্ড বন্ধ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকান্ড বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

প্রথম মন্তব্য

একটি মন্তব্য দিন