শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটুক্তি জাতীয় পাটির

0
.

এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হওয়া ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ নূর হোসেনকে তথাকথিত উল্লেখ করে তাকে অল্প শিক্ষিত, মুর্খ ও দরিদ্র টাইপের লোক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি নেতারা। জাপা নেতারা বলেন, তাকে বলির পাঠা করা হয়েছিলো।
অন্যদিকে, যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নূর হোসেন প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই এরশাদকে বলা হলো ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’।

শনিবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র দিবস’ পালনে এক সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই নূর হোসেন ও এরশাদকে এভাবে উপস্থাপন করেন জাতীয় পার্টির নেতারা। ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবসকে ‘গণতন্ত্র দিবস’ পালন করে আসছে জাপা।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘তথাকথিত নূর হোসেন একজন অল্পশিক্ষিত, মূর্খ ও দরিদ্র টাইপের লোক। আর্টিস্ট দিয়ে তার বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে, সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়ে আসা হয়। আমাদের পূজোর সময় পাঁঠাকে গোসল করিয়ে, তেল-সিঁদুর মেখে, ঠাকুরের সামনে এনে বলি দেয়, ঠিক তেমনি। প্রাণ যায় পাঁঠার, পূণ্য হয় আমার। তেমনি নূর হোসেনকে বলির পাঁঠা করা হয়েছিলো। আর ফল ভোগ করে অন্যরা। নূর হোসেন গণতন্ত্রের জন্য আত্মহুতি দেননি। তাকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো।’

জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘প্রতিদিনই অগণতান্ত্রিকভাবে র্যাব, পুলিশ, অন্যরা মাদক প্রতিরোধের নামে, সন্ত্রাস দমনের নামে মানুষ মারছে। তাতে গণতন্ত্রের কিছু হচ্ছে না। অথচ এক নূর হোসেনে গণতন্ত্র চলে গেলো! এরশাদ স্বৈরাচার হয়ে গেলেন! তিনি গণতন্ত্রকে হত্যা করেননি। তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র।’
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পর এদেশের মানুষকে যদি কেউ ভালোবেসে থাকেন, তিনি এরশাদ। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পর যদি কেউ এদেশের উন্নতি করে থাকেন, তবে তিনি এরশাদ। তাই নূর হোসেন দিবস হিসেবে নয়, আগামী বছর থেকে ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টি সারাদেশে পালন করবে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে। কারণ ১৯৮৪ সালের এই দিনে এরশাদ ঘোষণা করেছিলেন, দেশে আর কোনোদিন সামরিক আইন বা শাসন আসবে না।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘নূর হোসেন একটি এজেন্ডার নাম। কে আনলো তাকে? আজ ২৮ বছরেও কেনো তার হত্যার তদন্ত শেষ হলো না? কোথায় সেই মামলা? কেনো তা শেষ হয় না? কারা সেই মামলার আসামি? কেনো তারা বিচারের বাইরে?
তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই একদল মানুষ নূর হোসেনের হত্যাকারী হিসেবে ঘৃণিত হবে, অন্যদিকে এরশাদ গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে পরিগণিত হবেন। তাই নূর হোসেন নূর হোসেন খেলা বন্ধ করুন।’

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন