রাঙামাটিতে কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির নামে বছরে ৩ কোটি টাকা চাঁদা আদায়

0
ব্রেকিং নিউজ
  • *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

                    *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

                    *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

.

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় ব্যবসা বানিজ্য গুছিয়ে নিচ্ছে অত্রাঞ্চলের বেশ কিছু কাঠ ব্যবসায়ি। শহর থেকে বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া কাঠ ভর্তি প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিনই আদায় করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬শ টাকা।

প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৬টি কাঠভর্তি ট্রাক থেকে রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির নাম দিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায় করছে কাঠ বাহক বহুমুখী সমবায় সমিতি নামক একটি সংগঠন। এই সংগঠনটি বিগত কয়েক বছর সময়কাল ধরে এই টাকা আদায় করলেও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল্লাহ স্বপন জানিয়েছেন বিগত এক বছর যাবৎ রাঙামাটি থেকে বৈধভাবে পাচার হওয়া কাঠভর্তি প্রতিটি ট্রাক থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। সদস্যদের হিসেব অনুসারে বছরে অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকা তথাকথিত চাঁদা আদায় করেছে রাঙামাটি কাঠ বাহক বহুমুখী সমবায় সমিতির দায়িত্বশীল লোকজন।

.

বিষয়টি সম্প্রীতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন জানতে পারলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উক্ত সমিতির কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনের আলাপে গাড়ি প্রতি উক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন কাঠ বাহক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফ উল্লাহ স্বপন। তিনি জানান, তাদের কাঠ বাহক সমিতির জন্য তারা দুইশো টাকা মাত্র নেন। বাকি টাকা রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির জন্য আদায় করা হয়। এই ক্ষেত্রে জনাব শরিফ বলেন, ভাই আমরা তাদের অধীনস্থ কর্মচারি হওয়ায় আমাদের মাধ্যমে এই টাকা ব্যবসায়িদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

এদিকে, রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আবু বলেছেন, কাঠ ব্যবসায়ি সমিতি একটি অন্যতম বৃহৎ সংগঠন। এই সংগঠনের নিজস্ব লোকবল রয়েছে। সংগঠনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা সংগঠনের অফিসেই আদায় করা হয়। অন্য কোনো সংগঠনের মাধ্যমে রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমিতি কোনো চাঁদাবাজি করেনা।

.

এই কাজের সাথে জড়িতদের সকলকেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আবু বলেন, আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে যারাই টাকা আদায় করছে তারা সকলেই সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিক এটাই আমার দাবি। এদিকে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত দুইদিন এই বিষয়টি নিয়ে একটি সংস্থা ও প্রতিবেদকের তৎপরতার মুখে বর্তমানে রাঙামাটি থেকে ছেড়ে যাওয়া কাঠভর্তি ট্রাকগুলো থেকে শহরের মানিকছড়ি গিয়ে এবং রাউজানের ঢালার মুখ চেকপোষ্টে গিয়ে এই টাকা আদায় করা হয়।

চাঁদা প্রদানকারি ভূক্তভোগী একজন জানিয়েছেন, আমি মানিকছড়িতে রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে ধাওয়া করে রাউজান এসে আমার সাথে দূর্ব্যবহার করে ৪ হাজার ৮৫০শ টাকা নিয়ে নেয় রাঙামাটি কাঠ বাহক সমিতির দপ্তর সম্পাদক মোঃ মাসুদ রবি। একইভাবে আরো সাতটি গাড়ি থেকেও আদায় করেছে বিভিন্ন অংকের অর্থ। এসকল অর্থ নিলেও তারা কোনো রশিদ প্রদান করেন না। শুধুমাত্র কাঠ বাহক সমিতির একটি রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই রশিদে কোনো টাকার অংক উল্লেখ থাকেনা।

টোকেন।

আজ রাঙামাটি থেকে আটটি কাঠভর্তি ট্রাক জেলার বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে জানিয়ে এক ব্যবসায়ি বলেছেন, বর্তমানে এই সিন্ডিকেটটির কাছে আমরা অত্যন্ত অসহায়। তারা বিগত কয়েক বছর ধরেই এই ধরনের চাঁদাবাজি করে আসলেও সম্প্রতি টাকার অংকটা অত্যন্ত বাড়িয়ে নিচ্ছে। এদিকে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে টাকা আদায়ের সময় এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাওয়া হলেও সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি উক্ত চাঁদা আদায়কারি।

নিরাপত্তাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন ঐ সংস্থার লোকজনের কাছে উক্ত ব্যক্তি জানান, আমি হুকুম পালনকারি। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে আমি এই কাজ করছি। পরবর্তীতে কাঠ বাহক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে উক্ত সংস্থাটির কার্যালয়ে যেতে বললেও তারা মোবাইল বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানাগেছে।

কোন মন্তব্য নেই