চট্টগ্রামে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও’র বিরুদ্ধে নারী কর্মকর্তাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ!

3
.

জেলার বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. একরামুল ছিদ্দিকের কর্তৃক এক নারী কর্মকর্তা শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই নারী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে অভিযোগটি মিথ্যা বানোয়াট বলেছেন একরামুল ছিদ্দিক।

জেলা প্রশাসককে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. একরামুল ছিদ্দিক ফোন করে কার্যালয়ে ডেকে নেন। এ সময় কার্যালয়ে নির্বাহীসহ চার ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

.

তাদের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালিগালাজ শুনে ওই নারী কর্মকর্তা কান্নায় ভেঙে পড়লে অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন ইউএনও।

তারা বের হয়ে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক জড়িয়ে ধরে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করে ওই নারী কর্মকর্তাকে। এ সময় ইউএনও বলেন, ‘তুমি মাইনোরিটি সম্প্রদায়ের অবিবাহিত শিক্ষিত মেয়ে উল্লেখ করে সম্মানহানির ভয়ভীতি দেখিয়েছি।’

এ ঘটনার পর থেকে কর্মসস্থলে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ওই নারী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ফোন করে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বলেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও।

জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য আপা প্রকল্পের তথ্য সেবা কর্মকর্তা হিসেবে বোয়ালখালীতে কর্মরত রয়েছেন ওই নারী কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, ‘সরকারী কোনো প্রয়োজনীয় ফাইলে সই করাতে গেলে ইউএনও দেড়/দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখতেন। এছাড়া অন্যান্য সহকর্মীদের মাধ্যমে ফাইল পাঠানো হলে তিনি খারাপ ব্যবহার করে ফেরত পাঠাতেন। এ বিষয়ে ইউএনও বলেছেন ফাইল আমাকে নিয়ে যেতে হবে, তবেই তিনি সই করবেন।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন ওই নারী কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক পারভীন আক্তারকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরো ঘটনাকে মিথ্যা বানোয়াট ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলছেন বোয়ালখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. একরামুল ছিদ্দিক

তিনি পাঠক ডট নিউজকে বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মহিউদ্দিন নামে এক যুবকের সাথে এই নারীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।  মহিউদ্দিন প্রায় তার সরকারী অফিসে এসে আড্ডা মারে।  এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তারা অভিযোগ দিলে আমি ওই নারী কর্মকর্তাকে ডেকে

মহিউদ্দিন যেন বিনা প্রয়োজনে অফিসে এসে বসে না থাকে সে নির্দেশ দিই।  এতে মহিউদ্দিনের প্ররোচনায় এই নারী আমার বিরুদ্ধে ডিসি স্যারকে অভিযোগ দিয়েছে।  যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

3 মন্তব্য