জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ছাত্র ফোরামের সভা 
মানুষের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব-আমীর খসরু 

1
.

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব হয়েছিল এমন এক প্রেক্ষাপটে যখন এই জগতে নিপীড়ন, নির্যাতন ও অপরাধে মানুষের জীবন বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিল। মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ব সৃষ্টি করে শান্তি ফিরিয়ে আনতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব।

তিনি আজ ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরামের ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালন সেটা যুগে যুগে প্রযোজ্য থাকবে। এই বিষয়টি কোন দিনই চলে যাবে না, এইটা সবসময়ের জন্য। কারণ যুগে যুগে দুষ্ট মানুষ, দুষ্ট সমাজ জীবনকে জগৎকে অতীষ্ট করে তুলেছিলো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই বিশুদ্ধ বার্তাটি কিন্তু সকলের জন্য।

তিনি আরো বলেন, যেখানে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, জেলজুলুম, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, অধিকারহরণ এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই বাণী বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাবনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আইনের শাসন নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই, সাথে সাথে আরো নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ অবস্থান করেছি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই ভূখন্ডের মধ্যে যারা বসবাস করে তারা সবাই আইন ও সংবিধানের চোখে সমান। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের কোন সংঘাত সৃষ্টি করা যাবে না। এটা যদি আমরা ধারণ করতে পারি তাহলে যারা ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র করে তারা পরাজিত হবে।

সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা ধর্মকে নিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমাদের এই সম্প্রীতির দেশে আমরা সেটা হতে দেব না। কোন ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমরা এই দেশকে যেতে দেব না। যারা সেই পথে যেতে চায় আমরা তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করবো। এই দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চিন্তা চেতনায় বিএনপি গঠন হয়েছে। তার মূলমন্ত্র হচ্ছে যারা রাষ্ট্রের সীমনার মধ্যে বসবাস করে তারা রাষ্ট্র ও সংবিধানের চোখে সমান। এটা সকলের সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিএনপি দেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালগু বলে বিশ্বাস করে না। দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, চাকমা, মারমা আমরা সবাই বাংলাদেশী। এই দেশে আমাদের জন্ম এই দেশেই আমাদের মৃত্যু। এটাই আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশ। এই দেশকেই আমাদের ভালবাসতে হবে। আমরা সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। এখানে সবার অধিকার সমান। তিনি বলেন, সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বিশ্বজিতকে কুপিয়ে হত্যা করলেও হত্যাকারীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিচার হয় না। অথচ নিরাপরাধ বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়নর করে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,  চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র ফোরামের সভাপতি রাজীব ধর তমালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লাব চৌধুরী বিল্লুর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপি নেতা এম এ আজিজ, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শাহেদ বক্স, কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী মিঠু, মনজুর রহমান চৌধুরী, মো. ইদ্রিস আলী, আলী আজম,আফতাবুর রহমান শাহীন, হিন্দু ছাত্র ফোরামের নেতা গোপাল শর্মা, পন্ডিত বিশ্বজিত চক্রবর্তী, বাপ্পী দে, অমিত ধর, মিঠুন দাশ, জীবন মিত্র রাজ, প্রাপ্ত বশাক, রীপন দেব, রিপন কান্তি নাথ, রাজু দে, রানা শীল, যীতেন্দ্র নারায়ন দাশ, বিপ্লব চৌধুরী, রাজীব দে শম্ভু, শীপন, মোহন দে প্রমুখ।

প্রথম মন্তব্য

  1. বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে শান্তি নষ্ট করার জন্য সবচাইতে বেশি দায়ী হচ্ছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নামক দল গুলো।যারা এখন শান্তির কথা বলছে এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় বিষয় কে সামনে এনে শান্তির কথা বলছে তাদের কাছে জানতে চাইবো আপনারা বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে যেভাবে শান্তি নামক শব্দটি মুছে দিয়েছেন সেই সকল বিষয়গুলো চিন্তা করলে আপনাদের মুখে কি এমন কথাগুলো মানায় কিনা?