আজ মহালয়া, মেধস আশ্রমে নানা আয়োজন

0
.

পূজন সেন, বোয়ালখালী:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত পবিত্র তীর্থভূমি মেধস মুনির আশ্রমে মহালয়া উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচীর। আজ শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে চণ্ডীপাঠ, শঙ্খের ধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহবান জানানো হবে।

মহালয়া উদযাপনের মধ্যে দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা ঘটবে। এর মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত এ মেধস আশ্রমে আদিকালে দেবী ভগবতীর প্রথম পূজা হয়েছিল। ঋষি মেধসের নির্দেশে রাজ্য হারা সুরথ ও স্বজন বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়ে পূজা করেছিলেন। তবে সে পূজা বসন্তকালে হয়েছিল বলে তা বাসন্তী পূজা নামে প্রচলন ঘটে।

ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারে ও লঙ্কার রাজা রাবণকে পরাজিত করতে শরৎকালে অকাল বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করেন। সে পূজা শারদীয়া দুর্গা পূজা হিসেবে খ্যাতি পায় বলে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

কালের বিবর্তনে ঋষি মেধসের আশ্রম বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে ঋষি মেধস মুনি ও এ আশ্রমের কথা ‘চ-ী’সহ বিভিন্ন শ্রাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। আজ থেকে শতবছর আগে স্বামী বেদানন্দ যোগবলে বিলুপ্ত এ আশ্রম আবিস্কার করেন।

প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গিক পরিবেশে কয়েকটি পাহাড়ের সন্নিবেশে পবিত্র এ তীর্থভূমিতে চলে দেবী দুর্গার আরাধনা। সমতল থেকে প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় রয়েছে মুল মন্দির। এ ছাড়াও রয়েছে চন্ডী মন্দির, শিব মন্দির, সীতা মন্দির, তারা কালী মন্দির, কামাখ্যা মন্দির ও মানস সরোবর।

মহালয়া উপলক্ষে ভোর সকাল থেকে দেশি-বিদেশী পূজার্থী, দর্শনার্থী, পূণ্যার্থী ও ভক্তদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে মেধস আশ্রম। ফুলের সুঘ্রাণে, ধূপের গন্ধে আমোদিত আশ্রম অঙ্গনে চলে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনি, উলু ধ্বনি ও মন্ত্র পাঠ। এ সময় এক স্বর্গীয় অনাবিল প্রশান্তি ভর করে ভক্ত মনে প্রাণে।

বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, মেধস আশ্রমকে জাতীয় তীর্থস্থান ঘোষণা ও এ আশ্রমকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলনন্দ ব্রহ্মচারী বলেন, সনাতন ধর্মাম্ববলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার উৎপত্তি এ মেধস আশ্রম। এ আশ্রমে মহালয়া উপলক্ষে শনিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচী আয়োজন করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই