পাঁচলাইশ বিএনপির পরিচিতি সভায় নোমান
“গঙ্গা জলে স্নান করে পাপমুক্ত হওয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন”

3
.

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ভোটের আগের দিন মধ্যরাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে যে সরকার জন্মগ্রহণ করে সেই সরকারের পক্ষে কখনো দূর্নীতি, হত্যা, সন্ত্রাস ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রহীনতার কারনে দেশে দূনীতি ও সন্ত্রাস প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে। তাই “গঙ্গা জলে স্নান করে পাপমুক্ত হওয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহবান জানান তিনি।

আজ রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ভিআইপি টাওয়ারে পাঁচলাইশ থানা বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় আবদুল্লাহ আল নোমান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

নোমান বলেন, সরকার দূর্নীতি নির্মূলের নামে জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরোধী অভিযান চালিয়ে সম্রাট ও জিকে শামিমের মত কয়েকজন চুনোঁপুটিকে গ্রেফতার করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাগব বোয়ালদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রেখে দিয়েছে।

তিনি বলেন, দূর্নীতি, সন্ত্রাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যা, মাদক ব্যবসা, জুয়া ও ক্যাসিনোর বিস্তার ঘটিয়ে যে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে এই অবক্ষয়ের নেপথ্য নায়ক হচ্ছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এক কথায় সরকারের সর্বাংগে ঘাঁ হয়েছে, পচঁন ধরেছে এবং দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। মলম দিয়ে লোক দেখানো অভিযানের নামে এই ক্ষত সারানো যাবে না।

নোমান বলেন, এই দূর্গন্ধময় দূঃসহ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়া। তাই সরকারকে অনুরোধ করব অবিলম্বে পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। গঙ্গা জলে স্নান করে পাপমুক্ত হওয়ার চেষ্টা বাদ দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

পাঁচলাইশ থানা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি মামুনুল ইসলাম হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আশরাফ চৌধুরী, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ন-সম্পাদক আর.আই চৌধুরী শাহীন, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির আহমদ চৌধুরী, ৪২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা উল্লাহ চৌধুরী, শুলকবহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হাসান ওসমান, ৪২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাছান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আকতার হোসেন লেদু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আসিফ চৌধুরী, যুগ্ন-সম্পাদক শহিদুর রহমান বেলাল, এরশাদুল ইসলাম, তারেক রশীদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক শাহ আলম, জাকির হোসেন, শুলকবহর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি দিদারুল আলম, নেজাম উদ্দিন, মান্নান, আইয়ুব খাঁন, সরওয়ার সুফী, জসিম, চানমিয়া, ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ফয়েজ, ওয়াজিউল্লাহ, বাতেন সওদাগর, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক শেখ রাসেল ও মহানগর ছাত্রদলনেতা মহসীন কবির প্রমূখ।

3 মন্তব্য

  1. বর্তমান সরকার দুর্নীতি, হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেটা আপনাদের সময় আপনারা করার সাহস পর্যন্ত করতে পারতেন না। কারণ তৎকালীন সময়ে দুর্নীতি হত্যা-সন্ত্রাস সবকিছু আপনাদের নির্দেশে হতো এবং আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, সেইসাথে হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারপরও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে এধরনের মিথ্যাচার জনগণ মেনে নেবে না।

  2. দেশের 97 শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার এই শুদ্ধি অভিযানের পক্ষে রয়েছেন। কারণে অভিযানের ফলে দেশের মধ্যে দুর্নীতি অনেক কমে গিয়েছে। সেই সাথে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তারাও সরে এসেছে। কিন্তু আপনারা সরকারের এই সকল ভাল কাজের প্রশংসা করতে পারবেন না। কারণ আপনারা শুধুমাত্র প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন আর সেই জন্য আপনাদের আজকে এই অবস্থা। যদি দেশের ও দেশের জনগণের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করতেন তাহলে আপনাদের এই দিন দেখতে হতো না।

  3. গঙ্গা জলে যার স্নান করার কথা সেই দুর্নীতিবাজ নেত্রী আপনাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এতিমদের অভিশাপে এখন কারা ভোগ করে পাপ মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই তিনি কারাগারে সুখী থাকলেও আপনারা তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখিয়ে আন্দোলনের নামে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার যদি এবার ভোট ডাকাতি করতো তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরবর্তী নির্বাচনে কিভাবে আপনারা মাত্র 30 আসন পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।